মূল অংশে যান

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম ২০২৬

৭ নভেম্বর ২০২৬ · পড়তে ৫ মিনিট

সংক্ষেপে

  • টিকিট কাটার অনুমোদিত মাধ্যম তিনটি: eticket.railway.gov.bd, রেলওয়ের রেল সেবা অ্যাপ আর স্টেশনের কাউন্টার।
  • যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে অনলাইনে টিকিট কাটা যায়; অ্যাকাউন্ট খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) যাচাই লাগে।
  • এক লেনদেনে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট, দিনে সর্বোচ্চ ২টি লেনদেনে মোট ৮টি।
  • বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপ বা ভিসা, মাস্টারকার্ড, নেক্সাস কার্ডে টাকা দেওয়া যায়।

এখন আর টিকিটের জন্য স্টেশনে লাইনে দাঁড়াতে হয় না। বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিট সাইট বা রেল সেবা অ্যাপে ঘরে বসেই আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কাটা যায়। নিচে প্রথমবার অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে টিকিটের PDF হাতে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ দেওয়া হলো। নিয়মগুলো রেলওয়ের ই-টিকিট সাইটের নির্দেশনা আর শর্তাবলি মিলিয়ে লেখা।

কোথা থেকে টিকিট কাটবেন

রেলওয়ে নিজেই সতর্ক করেছে: টিকিট কিনুন শুধু এই তিন জায়গা থেকে।

  • ওয়েবসাইট: eticket.railway.gov.bd
  • অ্যাপ: Google Play বা App Store-এ Rail Sheba, প্রকাশক Bangladesh Railway
  • স্টেশনের টিকিট কাউন্টার

ফেসবুক পেজ, অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা দালালের কাছ থেকে টিকিট কিনে প্রতারিত হলে বা অ্যাকাউন্ট ব্লক হলে রেলওয়ে দায় নেবে না। পাসওয়ার্ড, OTP বা NID-এর তথ্য কাউকে দেবেন না।

ধাপ ১: অ্যাকাউন্ট খুলুন (একবারই লাগে)

  1. ই-টিকিট সাইটে Register চাপুন, বা রেল সেবা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশনে যান।
  2. জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে NID যাচাই করুন। নাম লিখুন ঠিক যেভাবে এনআইডি কার্ডে লেখা, নইলে যাচাই আটকে যেতে পারে।
  3. মোবাইল নম্বর আর পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট শেষ করুন। মোবাইলে আসা OTP দিয়ে নম্বর নিশ্চিত করতে হয়।

১৮ বছরের কম বয়সী বা বিদেশি পাসপোর্টধারী হলে রেজিস্ট্রেশন পাতার Submit Data বোতাম দিয়ে জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট জমা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।

  1. লগইন করে From ঘরে যে স্টেশন থেকে উঠবেন আর To ঘরে যেখানে নামবেন, তা লিখুন।
  2. Date of Journey-এ যাত্রার তারিখ দিন। আজ থেকে সামনের ১০ দিনের তারিখ বাছা যায়।
  3. Choose Class-এ শ্রেণি বেছে Search Trains চাপুন।

কোন ট্রেন কখন ছাড়ে আর সাপ্তাহিক ছুটি কবে, তা আগে সব ট্রেনের সময়সূচি বা শহর থেকে শহরে ট্রেন পাতায় দেখে নিলে খোঁজা সহজ হয়।

কোন শ্রেণির মানে কী

সাইটে লেখামানে
AC_Bএসি কেবিনের বার্থ (রাতের ট্রেনে শোয়ার জায়গা)
AC_Sএসি কেবিনের সিট (দিনের ট্রেনে)
SNIGDHAস্নিগ্ধা: এসি চেয়ার
F_BERTH / F_SEATনন-এসি প্রথম শ্রেণির কেবিন, বার্থ বা সিট
F_CHAIRনন-এসি প্রথম শ্রেণির চেয়ার
S_CHAIRশোভন চেয়ার (নন-এসি)
SHOVANশোভন: নন-এসি সমতল বেঞ্চ সিট
SHULOVসুলভ: নন-এসি কাঠের বেঞ্চ সিট

ধাপ ৩: আসন বেছে নিন

তালিকা থেকে ট্রেন বেছে বুকিংয়ে যান, কোচ বেছে খালি আসনে চাপ দিন। এক লেনদেনে সর্বোচ্চ ৪টি আসন নেওয়া যায়। ৩ থেকে ১২ বছরের শিশুর জন্য শিশু টিকিট কাটা বাধ্যতামূলক।

অতিরিক্ত কোচের (extra coach) আসন নিলে বাড়তি ভাড়া লাগে: শোভনে ২০% আর স্নিগ্ধা ও তার ওপরের শ্রেণিতে ৩০%।

ধাপ ৪: টাকা দিন

যাত্রীর তথ্য মিলিয়ে নিয়ে পেমেন্টে যান। এখন যেভাবে টাকা দেওয়া যায়:

  • মোবাইল ব্যাংকিং: বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপ
  • কার্ড: ভিসা, মাস্টারকার্ড, ডাচ্-বাংলা নেক্সাস

টাকা কেটে গেল কিন্তু টিকিট এল না? ঘাবড়াবেন না। রেলওয়ের নিয়মে আপনার ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট ৮ কার্যদিবসের মধ্যে টাকা ফেরত দেয়। না পেলে টিকিটের বিবরণসহ support@eticket.railway.gov.bd-এ ইমেইল করুন।

ধাপ ৫: টিকিট হাতে নিন

  • টাকা দেওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে টিকিট তৈরি হয়। নিশ্চিত করার পাতা থেকেই PDF নামানো যায়।
  • একটি কপি ইমেইলেও আসে। ইনবক্সে না পেলে Spam বা Junk ফোল্ডার দেখুন।
  • পরে দরকার হলে ওয়েবসাইটের Purchase History বা অ্যাপের My Tickets থেকে আবার নামান।

টিকিটে তারিখ, সময়, গন্তব্য, কোচ আর আসন নম্বর ঠিক আছে কি না সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে নিন। টিকিট নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে কেনার ২ ঘণ্টার মধ্যে ওপরের ইমেইলে জানাতে হয়।

টিকিট কেনার সীমা

এক লেনদেনেসর্বোচ্চ ৪টি টিকিট
দিনে লেনদেনসর্বোচ্চ ২টি (অনলাইন ও কাউন্টার মিলিয়ে)
দিনে মোট টিকিটসর্বোচ্চ ৮টি
দুই লেনদেনের শর্তট্রেন নম্বর, যাত্রার স্টেশন আর গন্তব্য স্টেশন আলাদা হতে হবে

ঈদের মতো বড় ছুটির সময় রেলওয়ে আলাদা নিয়ম দেয়। যেমন ২০২৬ সালের ঈদুল আজহার যাত্রায় একজন একটি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কিনতে পেরেছেন, আর সেই টিকিট ফেরতযোগ্য ছিল না।

প্রশ্ন ও উত্তর

কত দিন আগে টিকিট কাটা যায়?

অনলাইনে যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে। বিক্রি শুরুর সময় রেলওয়ে মাঝে মাঝে বদলায়, তাই বড় ছুটির আগে রেলওয়ের ঘোষণা দেখে নিন।

NID ছাড়া কি টিকিট কাটা যায়?

অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খুলতে NID যাচাই লাগে। ১৮ বছরের কম বয়সীরা জন্মনিবন্ধন আর বিদেশিরা পাসপোর্ট দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।

অন্য কেউ কি আমার NID দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেছে?

এমন হলে সিমের মালিকানার কাগজ আর NID-এর স্ক্যান কপি দিয়ে support@eticket.railway.gov.bd-এ ইমেইল করে নিজের পরিচয় ফিরিয়ে নেওয়া যায়।

টিকিট কি অন্য কাউকে দেওয়া যায়?

না। রেলওয়ের নিয়মে টিকিট হস্তান্তরযোগ্য নয়।

যাত্রার দিন ট্রেন কোথায়, দেখুন এখানেই

ট্রেনের নাম বা নম্বর লিখে খুঁজুন: এখন কোথায়, কত দেরি, আপনার স্টেশনে কখন আসবে। টাকা লাগে না, অ্যাপও লাগে না।

তথ্যসূত্র

Train Location Tracking বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল সেবা নয়। নিয়ম বদলাতে পারে; টিকিট কাটা বা ফেরতের আগে রেলওয়ের সাইটে মিলিয়ে নিন। ভুল চোখে পড়লে জানান।

আরও গাইড